ছোটোগল্পঃ মন পাথরের আস্তরণ

লিখেছেনঃ জাকিয়া সুলতানা মুক্তা জাকিয়া সুলতানা মুক্তা (১) ধুলোর ঝড়ে গায়ে কয়েক প্রস্থ ময়লার স্তর জমেছে। গায়ে গায়ে লাগানো সার দেয়া সারিতে স্যাঁতস্যাঁতে ঘামের পুরু আস্তরণ। ক্রিং ক্রিং করে বেজে ওঠা সাইকেলের শব্দ। পাশেই ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা তিনটে নারকেল গাছের দিগন্ত বিস্তৃত পাতারা। তারা ফিসফিসিয়ে ঝঙ্কার তোলে বাতাসে। আজকের দুপুরটা ভীষণ সুনসান, ঘুমন্ত কোমল। পাশের …

Continue reading ছোটোগল্পঃ মন পাথরের আস্তরণ

ছোটোগল্পঃ সাপ

লিখেছেনঃ বায়রনিক শুভ্র বায়রনিক শুভ্র ‘বাল শীতটাও পড়ছে!’ মেসোয়াক দাঁতে ঘষতে ঘষতে এই কথাটাই বার বার ভাবছে সাকা। চারিদিক কুয়াশায় ঢাকা। এমন শীত সাকা তার জীবনে কোনোদিন দেখেনি; রাতে লেপের সাথে কাঁথা জড়িয়ে শুয়েও গায়ের কাপুনি থামাতে পারেনি সে। শীতের সাথে যুক্ত হয়েছে উত্তরে শীতল হাওয়া। রাতে প্রস্রাব করতে বের হয়ে মনে হয়েছিল সে ঠান্ডায় …

Continue reading ছোটোগল্পঃ সাপ

ছোটোগল্পঃ নেই জমির জমিদার

লিখেছেনঃ দীপাঞ্জনা মণ্ডল দীপাঞ্জনা মণ্ডল আজকাল ঠিক ঠাওর হয় না। কেন সিগারেট ধরায়? খেতে ভালো লাগে? না। খেয়ে ভালো লাগে? উঁহু, তাও নয়। তবে! অথচ ধরায়, ইচ্ছে হয়। তবে কি ভালো লাগে রূপোলী লাইটার যে নীল শিখা ফোটায়! এক সুন্দর ফুল। অমোঘ। ধরিয়ে নেয়। কোনও লেখায় কারোর সিগারেট ধরানোর কথা পড়লে ইচ্ছেটা চাগাড় দেয়। ঠোঁটে …

Continue reading ছোটোগল্পঃ নেই জমির জমিদার

বিজ্ঞান কল্পকাহিনিঃ ইনোভ্যাশন

লিখেছেনঃ তাহসিব হাসান তাহসিব হাসান ১৩ই মে ২০৩৩। পৃথিবীজুড়ে আলোচনা - মানুষের হাতে চলে এসেছে অসীম ক্ষমতা; বিজ্ঞানী ট্রিনা এবার নোবেল পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন। ট্রিনার মতে বিশ্বের সবচেয়ে সফল মেশিনের আবিষ্কারক তিনি, যার মাধ্যমে মাইক্রো ইয়ামো রশ্মি ও সুপার কম্পিউটার দিয়ে যে-কোনো প্রাণীর জিন পরিবর্তন করে ফেলা যাবে। খুব দ্রুত একটা প্রাণীর দেহের ডিএনএ প্রতিস্থাপন …

Continue reading বিজ্ঞান কল্পকাহিনিঃ ইনোভ্যাশন

ছোটোগল্পঃ সমীকরণ

চুন্নু মোল্লার পানের বরজের পাশ দিয়ে করিম মোল্লার বাঁশ বাগানের দিকে হাঁটতে হাঁটতে মজনু মিয়ার বাদামী কুত্তাটা বরজে দিনমজুরের কাজে রত আবদুল গনিকে দেখে ভেউ করে ডাক পাড়লে আবদুল গনির মনে পড়ে যায় তার স্ত্রী করিমনের আজ মাসিক চলছে। আপনারা যারা ইতোমধ্যেই মজনু মিয়ার বাদামী কুত্তার ঘেউয়ের সাথে আবদুল গনির বউয়ের মাসিকের কথা মনে পড়ার …

Continue reading ছোটোগল্পঃ সমীকরণ

ছোটগল্পঃ পরিযায়ী কারিকা

লিখেছেনঃ কিরণ এস কুণ্ডু কিরণ এস কুণ্ডু রাশেদের ইচ্ছে ছিল শিক্ষকতা নিজের বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই শুরু করবে, কিন্তু নিজ জেলাতে আবার বলতে গেলে জন্মভূমিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় প্রভাষক পদে আবেদনটা করেছিল। একাডেমিক রেজাল্টের কারণে চাকুরিটা পেতে বেগ পেতে হয়নি। ইতোমধ্যে কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএচডির জন্য অফার লেটারও পেয়েছে। ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে এথনিক মাইগ্রেশন হয়ে আমেরিকার …

Continue reading ছোটগল্পঃ পরিযায়ী কারিকা

ছোটগল্পঃ অভিধান একটি মানেবই বই নয়

লিখেছেনঃ দীপাঞ্জনা মণ্ডল  - কেয়ামতে ভগবান আমায় জিজ্ঞেস করলেন, টুমি অ্যাটো দিন খি করিয়াচ?  চরকা বুড়ি বুড়বুড়ি কাটছিল।  - মনে মনে খুব শর্মিন্দা হয়ে বললুম, সুতো কাটতুম। তকন সেই আলটপকা ভগবান আমায় কোলে বসিয়ে চুমু খেয়ে বললেন, টুমি ওটি পুণ্যের কাজ করিয়াচ। সুটা না টাকিলে লজ্জানিবাড়ণ হইবে কিসে! চরকা বুড়ি খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে চোখে কাজল …

Continue reading ছোটগল্পঃ অভিধান একটি মানেবই বই নয়

ছোটগল্পঃ গদ্যের কুচো ও কুচোর গদ্য

                লিখেছেনঃ  দীপাঞ্জনা মণ্ডল আগামী কাল পায়ের নিচ থেকে সরে গেছিল মাটি, গতকাল মাথার ওপর থেকে সরে যাবে ছাত। কুচো নেই হয়ে এর মধ্যেই ছিল। সামনে রুপোর পানপাত্রে মামদো আঙুরের রস ঢালছিল। ইঁটচাপা ঘাসগুলোর হাতে হাতে ঘুরছিল বিড়ি। ব্রহ্মদৈত্য কুশাসনে বসে পাইপ টানছিল। ক্যামেরায় চোখ রেখে স্কন্ধকাটাকে শাঁকচুন্নি চোখ টিপল। স্কন্ধকাটা পরের সমাবেশের কর্মসূচী মেলে দিল …

Continue reading ছোটগল্পঃ গদ্যের কুচো ও কুচোর গদ্য

ছোটগল্পঃ কাগুজে প্রাণীর আস্তানা

মূলঃ কেন লিউঅনুবাদঃ দীপাঞ্জনা মণ্ডল ছোট্টবেলার সবচেয়ে পুরনো যে কথাটা আমার মনে আসে সেটা আমার ফোঁপাতে থাকার। মা আর বাবার শত চেষ্টাতেও আমি শান্ত হচ্ছিলাম না। বাবা হাল ছেড়ে দিয়ে শোবার ঘর ছেড়ে চলে গেল, কিন্তু মা আমায় রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে ব্রেকফাস্ট টেবিলের ওপরে বসিয়েছিল। “দেখ, দেখ,” বলতে বলতে মা ফ্রিজের ওপর থেকে একটা মোড়কের …

Continue reading ছোটগল্পঃ কাগুজে প্রাণীর আস্তানা

সব চরিত্র কাল্পনিক ( শর্তাবলী প্রযোজ্য)

লিখেছেনঃ দীপাঞ্জনা মণ্ডল কমলাকান্তের অহিফেন আর হযবরল-র দুপুরে ঘুম – মোদ্দা কথা ও সব ঘটে ওঠবার জন্য স্নায়ু শিথিল করবার লাগে। আরশির কাঁচা পোস্ত বাটা ভাল লাগে আর ভোরের ঘুম; সুতরাং ওর জীবনে কোনও পরা বা জাদু বাস্তব নেই। আরশি সকালে ঘুম ভাঙলে বিছানা ছাড়ে না, ল্যাজে-গোবরে হবার সম্ভাবনার আগ পর্যন্ত মাঠ কামড়ে পড়ে থাকে। …

Continue reading সব চরিত্র কাল্পনিক ( শর্তাবলী প্রযোজ্য)

একটি আষাঢ়ে গল্প

সোয়াজি তরুণী ইবসুকার সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল একটি পানশালায়। প্রতি শুক্রবারের মতো সেদিনও আমি বিবলিওথেক বারের বাম কোণের একটি টেবিলে এক গ্লাস ‘হেনিকেন’ নিয়ে মাঝে মাঝে চুমুক দিচ্ছিলাম, গান শুনছিলাম আর ফেসবুকে চোখ বুলাচ্ছিলাম। পানশালাটিতে তখনও ভিড় জমেনি; বেশিরভাগ টেবিলই ফাঁকা। আমার মতোই এক গ্লাস বিয়ার হাতে মেয়েটি যখন আমাকে ‘হাই’ দিয়ে আফ্রিকান উচ্চারণে ইংরেজিতে …

Continue reading একটি আষাঢ়ে গল্প

ছোটগল্পঃ কুকুর

রহমান সাহেব কুকুরে পরিণত হয়ে গিয়েছেন, শহর জুড়ে এরকম একটা রটনা শোনা যাচ্ছে কদিন ধরে। ব্যাপারটা কেবল রটনায় সীমাবদ্ধ থাকলেও হতো, বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে ভিড় করছে আমাদের পাড়ায়। রহমান সাহেব প্রভাবশালী লোক, স্থানীয় এমপির ডান হাত, মানে এমপির বাম হাতের কাজটা তিনিই সামলে থাকেন। তাই বাইরে থেকে কিংবা শহরের অন্য এলাকা থেকে যারা …

Continue reading ছোটগল্পঃ কুকুর

উষ্ট্রমূত্র পানের উৎস অনুসন্ধানে

সময়টা আটশ সালের একটু আগে পরে হবে। মোহাম্মদ ও কৃষ্ণ এক পার্টিতে একত্রিত হয়েছেন। পার্টি শেষে দুই বন্ধুর বিশেষ বন্ধুসুলভ আলাপঃ কৃষ্ণঃ কী খবর দোস্ত? পৃথিবীতে দিনকাল কেমন যাচ্ছে? মোহাম্মদঃ ভালোই তো যাচ্ছিলো। কিন্তু এই শেষ জীবনে এসে বড় বিপদে পড়েছি। তোমার সাহায্য দরকার। কৃষ্ণঃ কী বিপদ বলো বন্ধু। বিপদের বন্ধুই তো প্রকৃত বন্ধু। মোহাম্মদঃ …

Continue reading উষ্ট্রমূত্র পানের উৎস অনুসন্ধানে

ছোটগল্পঃ পাত্র

“এইডা কী আনছো? এরহম জিনিস তো আগে দেহি নাই।” পাত্রটা হাতে তুলে হাসমতকে জিজ্ঞেস করে আমিনা। “ক্যামনে কমু ওডা কী। পাইছি, লইয়া আইছি।“ হাসমত উত্তর দেয়। পাশে দাঁড়িয়ে বাবা-মায়ের কথা শুনছিলো কুমকুম। হাত বাড়িয়ে পাত্রটা নিয়ে সূক্ষ পর্যবেক্ষণ শেষে বলে, “দেখেছো আম্মা, ভেতরটা কী সুন্দর! অন্য কাসা-পিতলের তৈজসপত্রের মতো এটাতে কোন ময়লা নেই। নিশ্চয়ই এটা …

Continue reading ছোটগল্পঃ পাত্র

ছোটগল্পঃ দুলাল স্যারের অলৌকিক প্রত্যাবর্তন

পয়তাল্লিশ বছর পর নন্দদুলাল স্যার ফিরে এসেছেন। ‘এসেছেন’ না বলে বলা উচিত ‘এসেছিলেন’। আবার ‘এসেছিলেন’ বলাটাও কতটা যুক্তিসংগত, তা আমরা বুঝতে পারছি না, কারণ তিনি চলে যাননি; তিনি আছেন। কিন্তু তিনি যে আছেন, এটাও পুরোপুরি সত্য নয়, কেননা তিনি আসলে নেই। এ এমন এক জটিল সমস্যা যে আমরা বুঝতেই পারছি না তিনি আছেন কি নেই। …

Continue reading ছোটগল্পঃ দুলাল স্যারের অলৌকিক প্রত্যাবর্তন

সুলতানার দুঃস্বপ্ন

প্রতিদিনের মতোই সুলতানা রোকেয়া হল থেকে বের হলো। চারপাশে তাকিয়ে তার চোখ ছানাবড়া। তার চারপাশে একটা মেয়েকেও সে হিজাব-বোরকা ছাড়া দেখছে না। ডান হাতের পিঠ দিয়ে চোখ কচলিয়ে আবার তাকালো সে। রাস্তায় মেয়েদের সংখ্যাও খুব কম। সবাই কেমন অদ্ভুত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাচ্ছে। সে নিজেও তার পোষাকের দিকে একবার চোখ বুলিয়ে নিলো। না, কোথাও কোন …

Continue reading সুলতানার দুঃস্বপ্ন

বকফুল

কয়েক হাজার বড় কালো পিঁপড়া দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যুদ্ধে নেমেছে। কে কাকে কামড়াচ্ছে তার ঠিক নেই, তবুও শহর আলী ধরে নিয়েছে এখানেও নিশ্চয়ই দুটো দল রয়েছে। গ্রাম্য প্রকৃতির কোলে বেড়ে ওঠা শহর আলী এরকম প্রাকৃতিক অনেক চিত্রকে ধারণ করেই বড় হয়েছে। তবুও আজও এরকম কোন দৃশ্য দেখলে দাঁড়িয়ে পড়ে। প্রকৃতির সাথে নিজেকে এক ঝলক …

Continue reading বকফুল

নূরজাহান ভিলা

তিনপাশে দেয়ালঘেরা একটি টিনশেড দোতলা ঘর। শহরের প্রতিটি বাড়ির নাম থাকলেও এই বাড়িটির কোন নাম ছিলো না। ঘরের পাশেই একটি কামিনী ফুল গাছে সবুজে-সাদায় মাখামাখি হয়ে থাকতো বছরের বেশিরভাগ সময়। রাস্তার দেয়ালের পাশেই একটি সন্ধ্যামালতী ফুল গাছ ফুলে ফুলে সাদা হয়ে থাকতো, যার কিছু ডাল দেয়াল টপকিয়ে রাস্তার ওপরও ঝুলে থাকতো। জবা ফুল গাছটা এতো …

Continue reading নূরজাহান ভিলা

বেহুলার সংসার

যে বহুভুজের ক্ষুদ্র সরলরেখাগুলো বরাবর আমার প্রতিদিনের আসা-যাওয়া আজ তারই এক প্রান্তে বেহুলার সাথে দেখা। ঠিক চিনতে পারছিলাম না, সেই কবে কোন ছোটবেলায় মনসামঙ্গল গানে তাকে দেখেছিলাম যখন আমি কোন ক্লাসেই ভর্তি হইনি। প্রায় ত্রিশ বছর আগের কোন এক রাতে আমাদের বাড়ির উঠোনে খোল-করতাল-সানাই ও হারমোনিয়ামের বাজনার তালে তালে রং-মাখা মুখায়বে তার নৃত্য সেকি আজও …

Continue reading বেহুলার সংসার