ছোটগল্পঃ অভিধান একটি মানেবই বই নয়

লিখেছেনঃ দীপাঞ্জনা মণ্ডল  - কেয়ামতে ভগবান আমায় জিজ্ঞেস করলেন, টুমি অ্যাটো দিন খি করিয়াচ?  চরকা বুড়ি বুড়বুড়ি কাটছিল।  - মনে মনে খুব শর্মিন্দা হয়ে বললুম, সুতো কাটতুম। তকন সেই আলটপকা ভগবান আমায় কোলে বসিয়ে চুমু খেয়ে বললেন, টুমি ওটি পুণ্যের কাজ করিয়াচ। সুটা না টাকিলে লজ্জানিবাড়ণ হইবে কিসে! চরকা বুড়ি খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে চোখে কাজল …

Continue reading ছোটগল্পঃ অভিধান একটি মানেবই বই নয়

ছোটগল্পঃ গদ্যের কুচো ও কুচোর গদ্য

                লিখেছেনঃ  দীপাঞ্জনা মণ্ডল আগামী কাল পায়ের নিচ থেকে সরে গেছিল মাটি, গতকাল মাথার ওপর থেকে সরে যাবে ছাত। কুচো নেই হয়ে এর মধ্যেই ছিল। সামনে রুপোর পানপাত্রে মামদো আঙুরের রস ঢালছিল। ইঁটচাপা ঘাসগুলোর হাতে হাতে ঘুরছিল বিড়ি। ব্রহ্মদৈত্য কুশাসনে বসে পাইপ টানছিল। ক্যামেরায় চোখ রেখে স্কন্ধকাটাকে শাঁকচুন্নি চোখ টিপল। স্কন্ধকাটা পরের সমাবেশের কর্মসূচী মেলে দিল …

Continue reading ছোটগল্পঃ গদ্যের কুচো ও কুচোর গদ্য

ছোটগল্পঃ কাগুজে প্রাণীর আস্তানা

মূলঃ কেন লিউঅনুবাদঃ দীপাঞ্জনা মণ্ডল ছোট্টবেলার সবচেয়ে পুরনো যে কথাটা আমার মনে আসে সেটা আমার ফোঁপাতে থাকার। মা আর বাবার শত চেষ্টাতেও আমি শান্ত হচ্ছিলাম না। বাবা হাল ছেড়ে দিয়ে শোবার ঘর ছেড়ে চলে গেল, কিন্তু মা আমায় রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে ব্রেকফাস্ট টেবিলের ওপরে বসিয়েছিল। “দেখ, দেখ,” বলতে বলতে মা ফ্রিজের ওপর থেকে একটা মোড়কের …

Continue reading ছোটগল্পঃ কাগুজে প্রাণীর আস্তানা

সব চরিত্র কাল্পনিক ( শর্তাবলী প্রযোজ্য)

লিখেছেনঃ দীপাঞ্জনা মণ্ডল কমলাকান্তের অহিফেন আর হযবরল-র দুপুরে ঘুম – মোদ্দা কথা ও সব ঘটে ওঠবার জন্য স্নায়ু শিথিল করবার লাগে। আরশির কাঁচা পোস্ত বাটা ভাল লাগে আর ভোরের ঘুম; সুতরাং ওর জীবনে কোনও পরা বা জাদু বাস্তব নেই। আরশি সকালে ঘুম ভাঙলে বিছানা ছাড়ে না, ল্যাজে-গোবরে হবার সম্ভাবনার আগ পর্যন্ত মাঠ কামড়ে পড়ে থাকে। …

Continue reading সব চরিত্র কাল্পনিক ( শর্তাবলী প্রযোজ্য)

একটি আষাঢ়ে গল্প

সোয়াজি তরুণী ইবসুকার সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল একটি পানশালায়। প্রতি শুক্রবারের মতো সেদিনও আমি বিবলিওথেক বারের বাম কোণের একটি টেবিলে এক গ্লাস ‘হেনিকেন’ নিয়ে মাঝে মাঝে চুমুক দিচ্ছিলাম, গান শুনছিলাম আর ফেসবুকে চোখ বুলাচ্ছিলাম। পানশালাটিতে তখনও ভিড় জমেনি; বেশিরভাগ টেবিলই ফাঁকা। আমার মতোই এক গ্লাস বিয়ার হাতে মেয়েটি যখন আমাকে ‘হাই’ দিয়ে আফ্রিকান উচ্চারণে ইংরেজিতে …

Continue reading একটি আষাঢ়ে গল্প

ছোটগল্পঃ কুকুর

রহমান সাহেব কুকুরে পরিণত হয়ে গিয়েছেন, শহর জুড়ে এরকম একটা রটনা শোনা যাচ্ছে ক’দিন ধরে। ব্যাপারটা কেবল রটনায় সীমাবদ্ধ থাকলেও হতো, বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে ভিড় করছে আমাদের পাড়ায়। রহমান সাহেব প্রভাবশালী লোক, স্থানীয় এমপির ডান হাত- মানে এমপির বাম হাতের কাজটা তিনিই সামলে থাকেন। তাই বাইরে থেকে কিংবা শহরের অন্য এলাকা থেকে যারা …

Continue reading ছোটগল্পঃ কুকুর

উষ্ট্রমূত্র পানের উৎস অনুসন্ধানে

সময়টা আটশ সালের একটু আগে পরে হবে। মোহাম্মদ ও কৃষ্ণ এক পার্টিতে একত্রিত হয়েছেন। পার্টি শেষে দুই বন্ধুর বিশেষ বন্ধুসুলভ আলাপঃ কৃষ্ণঃ কী খবর দোস্ত? পৃথিবীতে দিনকাল কেমন যাচ্ছে? মোহাম্মদঃ ভালোই তো যাচ্ছিলো। কিন্তু এই শেষ জীবনে এসে বড় বিপদে পড়েছি। তোমার সাহায্য দরকার। কৃষ্ণঃ কী বিপদ বলো বন্ধু। বিপদের বন্ধুই তো প্রকৃত বন্ধু। মোহাম্মদঃ …

Continue reading উষ্ট্রমূত্র পানের উৎস অনুসন্ধানে

ছোটগল্পঃ পাত্র

“এইডা কী আনছো? এরহম জিনিস তো আগে দেহি নাই।” পাত্রটা হাতে তুলে হাসমতকে জিজ্ঞেস করে আমিনা। “ক্যামনে কমু ওডা কী। পাইছি, লইয়া আইছি।“ হাসমত উত্তর দেয়। পাশে দাঁড়িয়ে বাবা-মায়ের কথা শুনছিলো কুমকুম। হাত বাড়িয়ে পাত্রটা নিয়ে সূক্ষ পর্যবেক্ষণ শেষে বলে, “দেখেছো আম্মা, ভেতরটা কী সুন্দর! অন্য কাসা-পিতলের তৈজসপত্রের মতো এটাতে কোন ময়লা নেই। নিশ্চয়ই এটা …

Continue reading ছোটগল্পঃ পাত্র

ছোটগল্পঃ দুলাল স্যারের অলৌকিক প্রত্যাবর্তন

পয়তাল্লিশ বছর পর নন্দদুলাল স্যার ফিরে এসেছেন। ‘এসেছেন’ না বলে বলা উচিত ‘এসেছিলেন’। আবার ‘এসেছিলেন’ বলাটাও কতটা যুক্তিসংগত, তা আমরা বুঝতে পারছি না, কারণ তিনি চলে যাননি; তিনি আছেন। কিন্তু তিনি যে আছেন, এটাও পুরোপুরি সত্য নয়, কেননা তিনি আসলে নেই। এ এমন এক জটিল সমস্যা যে আমরা বুঝতেই পারছি না তিনি আছেন কি নেই। …

Continue reading ছোটগল্পঃ দুলাল স্যারের অলৌকিক প্রত্যাবর্তন

সুলতানার দুঃস্বপ্ন

প্রতিদিনের মতোই সুলতানা রোকেয়া হল থেকে বের হলো। চারপাশে তাকিয়ে তার চোখ ছানাবড়া। তার চারপাশে একটা মেয়েকেও সে হিজাব-বোরকা ছাড়া দেখছে না। ডান হাতের পিঠ দিয়ে চোখ কচলিয়ে আবার তাকালো সে। রাস্তায় মেয়েদের সংখ্যাও খুব কম। সবাই কেমন অদ্ভুত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকাচ্ছে। সে নিজেও তার পোষাকের দিকে একবার চোখ বুলিয়ে নিলো। না, কোথাও কোন …

Continue reading সুলতানার দুঃস্বপ্ন

বকফুল

কয়েক হাজার বড় কালো পিঁপড়া দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যুদ্ধে নেমেছে। কে কাকে কামড়াচ্ছে তার ঠিক নেই, তবুও শহর আলী ধরে নিয়েছে এখানেও নিশ্চয়ই দুটো দল রয়েছে। গ্রাম্য প্রকৃতির কোলে বেড়ে ওঠা শহর আলী এরকম প্রাকৃতিক অনেক চিত্রকে ধারণ করেই বড় হয়েছে। তবুও আজও এরকম কোন দৃশ্য দেখলে দাঁড়িয়ে পড়ে। প্রকৃতির সাথে নিজেকে এক ঝলক …

Continue reading বকফুল

নূরজাহান ভিলা

তিনপাশে দেয়ালঘেরা একটি টিনশেড দোতলা ঘর। শহরের প্রতিটি বাড়ির নাম থাকলেও এই বাড়িটির কোন নাম ছিলো না। ঘরের পাশেই একটি কামিনী ফুল গাছে সবুজে-সাদায় মাখামাখি হয়ে থাকতো বছরের বেশিরভাগ সময়। রাস্তার দেয়ালের পাশেই একটি সন্ধ্যামালতী ফুল গাছ ফুলে ফুলে সাদা হয়ে থাকতো, যার কিছু ডাল দেয়াল টপকিয়ে রাস্তার ওপরও ঝুলে থাকতো। জবা ফুল গাছটা এতো …

Continue reading নূরজাহান ভিলা

বেহুলার সংসার

যে বহুভুজের ক্ষুদ্র সরলরেখাগুলো বরাবর আমার প্রতিদিনের আসা-যাওয়া আজ তারই এক প্রান্তে বেহুলার সাথে দেখা। ঠিক চিনতে পারছিলাম না, সেই কবে কোন ছোটবেলায় মনসামঙ্গল গানে তাকে দেখেছিলাম যখন আমি কোন ক্লাসেই ভর্তি হইনি। প্রায় ত্রিশ বছর আগের কোন এক রাতে আমাদের বাড়ির উঠোনে খোল-করতাল-সানাই ও হারমোনিয়ামের বাজনার তালে তালে রং-মাখা মুখায়বে তার নৃত্য সেকি আজও …

Continue reading বেহুলার সংসার

ফাইনাল কাউন্টডাউন

১. আর মাত্র ২২ ঘণ্টা ২৩ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড। ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে মাউন্ট উলরিকেন-এর চূড়ায় অবস্থিত কাউন্ট ডাউন ঘড়িটা দেখছিলাম। সারা শহরের মোড়ে, অলিতে, গলিতেই কাউন্ট ডাউন ঘড়ি বসানো হয়েছে। বেশিরভাগই কমিউনা (কর্পোরেশন) থেকে বসিয়েছে। অনেকে ব্যক্তিগতভাবেও ঘড়ি বসিয়েছেন। স্টেডিয়ামে উচ্চস্বরে গান বাজছে, ব্যালকনি থেকেই শোনা যাচ্ছে। গান গত তিন দিন ধরেই চলছে, বিরতিহীন। উন্মুক্ত কনসার্ট। …

Continue reading ফাইনাল কাউন্টডাউন

অনুভূতিসমগ্র

যাদের সাথে আমার নিত্যদিনের ওঠা-বসা তাদের একজন নির্বাহী প্রকৌশলী। তার সাথে প্রতিদিন বিকেলে কয়েকঘন্টা কাটাতে আমার খুবই ভাল লাগে। সন্ধ্যার পরে ছাদে বসে চা খেতে খেতে সে যখন তার ঘুষ গ্রহণ বিষয়ক গল্পগুলো খুব অবলীলায় বলে, তখন অর্থলোভে আমার চোখ দুটো চকচক করে জ্বলতে থাকে। তার কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ বিষয়ক বেশ কিছু টিপস নিয়েছি। …

Continue reading অনুভূতিসমগ্র

মালাউন

"খানকির পোলায় মোরে মালাউন কইয়া গাইল্যায়। দিছি নাটকির পুতেরে ফালাইয়া। পেডের মইধ্যে ছুড়ি হান্দাইয়া এফোঁড়-ওফোঁড় কইর‍্যা হালাইছি। যে মুহে মালাউন কইয়া গাইল্যাইছে, হে মুখটা ফেচাফেচা কইর‍্যা দিছি। জিব্বাটা কাইড্যা লইয়া আইছি। চোদানির পুতে দোজখে যাইয়া যে কথা কইবে, হেইডাও পারবে না। হাহাহা। যা, এহোন বুড়িগঙ্গার পঁচা জলে পঁচগা। আরে, মোর বাপের নাম মোসলেম। মোর দাদার …

Continue reading মালাউন

আদম আলী

১. স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে পতিত হতে হতে সে ভাবছিলো - আহ! কী অপূর্ব এই শূন্য ভ্রমণ! নিজেকে পাখির মত লাগছিল তার। আনন্দে হাত দুটোকে পাখির মতো ছড়িয়ে দিল সে। তার বিবিও খুব উৎফুল্ল। যেখানে তারা অবতরণ করতে যাচ্ছে, সেখানে তাদের জন্য রয়েছে একটা বিশাল পৃথিবী, এটা ভাবতেই আনন্দে শিউরে উঠছিল সে। আনন্দে ভাসতে ভাসতে সে …

Continue reading আদম আলী

ছোটগল্পঃ নিপুর চিঠি

১. গত চার রাত প্রায় নির্ঘুম কাটিয়েছে নিপু। আজ যদি ঘুমাতে না পারে তবে কাল অফিস করাই মুশকিল হয়ে যাবে। গতকালই বস জানতে চেয়েছিলেন তার চোখের নিচে কালি কেন; তার ঠিকমতো ঘুম হয় কিনা। নিপু লজ্জা পেয়েছিলো। বস হয়তো ভেবেছেন, নিপু রাতভর মামুনের সাথে কথা বলে। তা তিনি ভাবতেই পারেন, কেননা যুগটাই যে এখন এমন। …

Continue reading ছোটগল্পঃ নিপুর চিঠি

ছোটগল্পঃ আবহমান

দ্রুতবেগে ফেরিটাকে আসতে দেখেও সেরজন আলী নৌকাটাকে সামনে চালিয়ে দেয়। ফেরীতে পার হওয়া যাত্রীরা ভয়ে আতকে ওঠে, এই বুঝি নৌকাটা ফেরীর নিচে পড়ে গুড়িয়ে যায়। সেরজন আলীর কোন তাড়া নেই, ফেরীর নিচে পড়লেও যেন কিছু যায় আসেনা এমন ভাবেই সে বৈঠা বেয়ে এগিয়ে যায়। ফেরির সাথে ধাক্কা লাগার পূর্বেই সেরজন আলী নৌকাটিকে ফেরীর পাশ কাটিয়ে …

Continue reading ছোটগল্পঃ আবহমান