বর্তমান পৃথিবীতে প্রায় চার হাজারের মতো ধর্ম আছে। এর মধ্যে প্রধান যে ধর্মগুলো রয়েছে, সেগুলোর প্রবর্তকদের জীবনী পড়তে গেলে আমরা দেখতে পাই ইসলাম ছাড়া প্রতিটি ধর্মের প্রবর্তক ব্যক্তিটি নম্র, ভদ্র, ক্ষমাশীল, ত্যাগীসহ আরো নানান গুনে গুনান্বিত। যিশু তাঁর জীবদ্দশায় কারও প্রাণ নেননি বা ধর্মের জন্য প্রাণ নিতে উপদেশ দেননি, বরং নিজের প্রাণ দিয়ে গিয়েছিলেন। সিদ্ধার্থ (গৌতম বুদ্ধ) রাজপুত্র হয়েও বেছে নিয়েছিলেন কৃচ্ছতা সাধনের পথ এবং প্রচার করেছিলেন অহিংস মতবাদ। মোজেস তাঁর অনুসারীদের নিয়ে পালিয়েছেন, কিন্তু যারা তাঁকে তাড়িয়েছিল, তাদেরকে অভিশাপ দেননি বা তাদের রক্ত নিতে উদ্যত হননি। জৈন ধর্মের প্রবর্তক মহাবীর মানুষ হত্যা তো দূরের কথা, যে কোন জীব হত্যাকেই পাপ বলে নির্দেশনা দিয়েছেন। [হিন্দু ধর্মের কোন প্রবর্তক নেই, তবে বহুশ্বরবাদী ধর্মের প্রকৃতি অনুযায়ী প্রচারকগণের কাছে বহুবিধ মত গ্রহণযোগ্য ছিল। উল্লেখ্য ভারতই একমাত্র দেশ যেখানে ইহুদিরা ও জরথ্রুস্টবাদের অনুসারীরা নির্বিঘ্নে ধর্ম পালন করতে পেরেছে।]

আমাদের মনে স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, কেন ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক মোহাম্মদের জীবন এতো যুদ্ধ ও রক্তে ভরা? অন্য নবী বা ধর্ম প্রবর্তকের বিপরীতে গিয়ে কেন তাঁর কাছ থেকে আমরা মানুষকে ভালবাসার উক্তির চেয়ে বেশি শুনতে পাই ঘৃণার কথা, হত্যার কথা, যুদ্ধের কথা? তবে কি এটা কোন গতানুগতিক ধর্ম ছিল না?

এই প্রবন্ধে আমরা দেখবো যে, ইসলাম সত্যিকারার্থেই কোন ধর্ম ছিল না, বা এখনও এটা ঠিক ধর্ম নয়, একটি ছদ্মবেশী কাল্ট।

কাল্ট হলো কিছু মানুষের একটা গ্রুপ যা একজন ব্যক্তিকে ও তার প্রচারিত মতবাদকে ঘিরে গড়ে ওঠে এবং একটি সাধারণ লক্ষ্যে কাজ করে। যে মতবাদটি ঘিরে তারা একত্রিত হয়, সেটি প্রচলিত ধর্ম ও দর্শন থেকে ভিন্ন, সাধারণভাবে বিচ্যুত। এই সংজ্ঞাটি আসলে তেমন কিছুই পরিস্কার করে না, কাল্টকে চিনতে হয় এর মতবাদ প্রচারের ধরণ ও কাল্ট সদস্যদের জীবনাচার দিয়ে। কাল্টের নিয়ম-কানুন প্রচলিত ধর্মগুলোর চেয়ে ভিন্ন ও তুলনামূলক কঠোর হয়। কাল্টের সদস্যরা এলিটসুলভ ধারণা পোষণ করে এবং ‘আমরাই শ্রেষ্ঠ’ টাইপ মতবাদ প্রচার করে থাকে। তারা অন্যদেরকে যুগপৎ ঈর্ষা ও ঘৃণা করে থাকে। কাল্টের আরো যে-সব বৈশিষ্ট্য রয়েছে সেগুলো আমরা পরবর্তী আলোচনায় ক্রমে নিয়ে আসবো। সাথে দেখবো ইসলামের সাথে তার কতটা মিল আছে।

ইসলামের মূল ভিত্তি হচ্ছে ‘আল্লাহ এক এবং মোহাম্মদ আল্লাহ প্রেরিত নবী’, এটা নির্বিবাদে মেনে নেয়া। মোহাম্মদ ও তাঁর চরিত্র কিংবা তাঁর কার্য সম্পর্কে কোনরকম প্রশ্ন তোলা ইসলামে ধর্মদ্রোহিতার সামিল। ইসলাম অনুসারীদের কাছে মোহাম্মদ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব, তা তিনি তাঁর জীবদ্দশাতে যা-কিছুই করে থাকুন না কেন। তাঁর জীবন-যাপন প্রণালী এবং তাঁর গৃহিত কার্যাদি প্রতিটি মুসলমানের কাছে অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়। প্রতিবার মোহাম্মদের নাম উচ্চারণ বা লিখার পরে ‘তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক’ বলা বা লেখা ব্যক্তি-পূজার সমান্তরাল। সুতরাং এটি স্পষ্ট যে ইসলাম নামক ধর্মটি আসলে একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে (মোহাম্মদ) ঘিরে গড়ে ওঠা, যা কাল্টের চরিত্রের সাথে একশতভাগ মিলে যায়।

কাল্টগুলোতে তাদের প্রচারিত মতবাদ সম্পর্কে কোন প্রশ্ন তোলা বা সমালোচনা একদমই সহ্য করা হয় না। কাল্টের প্রতি এবং এর প্রবর্তকের প্রতি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ কাল্টের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। এর ব্যতিক্রম হলে তার জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তির বিধান। কাল্টের প্রকৃতি অনুযায়ী ইসলামের নিয়ম-কানুনও খুবই কঠোর। ইসলামের পলিসি হলো, ‘অনলি ইন, নো আউট’। অন্য ধর্ম থেকে কেউ ইসলাম গ্রহণ করতে পারবে, কিন্তু কেউ ইসলাম ত্যাগ করলে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। অন্য ধর্মের কেউ কোন মুসলিমকে বিয়ে করতে হলে তাকে অবশ্যই ইসলামে কনভার্ট হতে হবে। কাল্টের নিয়ম-কানুন কঠোর হওয়ার অন্যতম কারণ সদস্য কমে যাওয়ার ভয়। প্রচলিত ধর্ম রেখে খুব মানুষই কাল্টে যোগ দিয়ে থাকে। তাই তাদেরকে ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা থাকে কাল্ট প্রবর্তক/প্রধানের। আমরা দেখতে পাই ইসলামের প্রথম তের বছরে মোহাম্মদ মাত্র ১২০ জনকে তাঁর প্রচারিত ধর্মের অনুসারী করতে পেরেছিলেন। আর হিজরত করেছিলেন একশ জনেরও কম অনুসারী। অনেকে হিজরতে রাজি ছিলেন না। মোহাম্মদকে এজন্য কোরানের আয়াত নাজিল করাতে হয়। আর মদীনায়ও তাদেরকে ধরে রাখতে মোহাম্মদকে কঠোর সব নিয়মাদি চালু করতে হয়।

আধুনিক যুগেও আমরা দেখি, যে কোন কাল্টের সদস্যরা তাদের আশেপাশের লোকজনকে ও প্রচলিত ধর্মগুলোকে ঘৃণা করে থাকে। এমনকি প্রচলিত কোন ধর্মবিশ্বাসের মধ্যেও যদি কোন কাল্ট গড়ে ওঠে, তবে তাদের নিজস্ব মতবাদ ভিন্ন অন্য মতবাদগুলোকে তারা ঘৃণা করে ও তাদের বিরুদ্ধে অবজ্ঞাসূচক প্রচার চালায়। মোহাম্মদ ও তার অনুসারীরাও মক্কাতে একই কাজ করেছিলেন। তারা মক্কাতে প্রচলিত সকল পৌত্তলিক ও একেশ্বরবাদী ধর্মকে ঘৃণা করতেন এবং যখন-তখন অবজ্ঞাসূচক মন্তব্য ছুড়তেন। কাবার দেব-দেবী সম্পর্কে আজে-বাজে কথা বলতেন। এর জন্য কখনও কখনও তারা ছোট-খাট আক্রমণেরও শিকার হয়েছিলেন, কিন্তু এটা করা থেকে তারা নিজেদেরকে বিরত রাখেননি কখনও। মূলত এটাই কাল্টের প্রকৃতি।

কাল্টের লোকজন যখন দেখে যে, তাদের দলে সেভাবে লোক আসছে না, তখন স্থান পরিবর্তন করে অন্য জায়গায় গিয়ে সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা চালায়। বিংশ শতাব্দীতে যে কাল্টটি সারা বিশ্বের নজর করেছিল, সেটির নাম ‘পিপলস টেম্পল’। এর প্রতিষ্ঠাতা জিম জোনস কাল্টটির কার্যক্রম শুরু করেছিলেন ইন্ডিয়ানাতে। সেখানে জুত করতে না পেরে চলে যান ক্যালিফোর্নিয়া। সেখানে তিনি বেশ ভাল রকমের সদস্য সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে তিনি তার সকল অনুসারীদের নিয়ে গায়ানায় হিজরত করেন।

পিপলস টেম্পলের মতো ইসলাম অনুসারীরা মক্কাতে জুত করতে না পেরে মদীনাতে হিজরত করেন। জিম জোনস ও তাঁর অনুসারীরা শেষ পর্যন্ত সবাই মিলে আত্মহত্যা করলেও মোহাম্মদ ও অনুসারীদের ক্ষেত্রে হয় বিপরীতটা। তারা মদীনাতে বেশ বড় রকমের দলে পরিণত হন এবং তাদের কাল্টকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়ার মন্ত্রে বের হয়ে যান। এখানেই মোহাম্মদের সফলতা। কাল্টগুলোর ক্ষেত্রে যা ঘটে না, মোহাম্মদ তাই করে দেখালেন। আজ পৃথিবীতে দেড় বিলিয়ন মানুষ এটি অনুসরণ করছে। মানুষ ইসলামকে ধর্মের দৃষ্টিতেই দেখছে, যদিও এটির নিয়ম-কানুন আচারাদিতে রয়ে গিয়েছে সেই কাল্টরূপী চেহারাটাই।

কাল্টগুলোতে প্রার্থনার আধিক্য থাকে এবং অনেকক্ষেত্রেই সেগুলো কঠিন ও কঠোর হয়। ইসলাম অনুসারীরা দিনে পাঁচবার প্রার্থণা করেন, মাসব্যাপী রোজা পালন করেন। রোজাকালীন সময়ে তারা জল পর্যন্ত পান করেন না। যারা এসকল নিয়ম-কানুন পালন করেন না, তাদেরকে হেয় দৃষ্টিতে দেখা হয় এবং অবজ্ঞা করা হয়, ক্ষেত্রবিশেষে শাস্তিও প্রদান করা হয়। পৃথিবীর অন্যান্য প্রধান ধর্মগুলোতে ধর্মপালনে এমন কঠিন ও কঠোর নিয়মকানুন খুব একটা প্রলক্ষিত হয় না। কোন কোন ধর্মে কঠিন উপবাসের বিধান থাকলেও ইসলামের মতো তা মাসব্যাপী নয়।

কাল্টগুলোর অনুসারীদের মধ্যে নিজেদেরকে অন্যদের থেকে আলাদাভাবে উপস্থাপনের প্রবণতা থাকে। অনেকক্ষেত্রে পোষাক ও আচার-আচরণ নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়। ইসলামে পুরুষদের ক্ষেত্রে মাথায় টুপি বা পাগড়ি ও নির্দিষ্ট একটি স্টাইলে দাড়ি রেখে অন্যদের থেকে পৃথকভাবে উপস্থানের প্রবণতা লক্ষণীয়। [কাল্টের সকল বৈশিষ্ট্যই যে ধর্মের থেকে আলাদা হবে এমন নয়।এই প্রবণতাটি অনেক ধর্মের অনুসারীদের মাঝেই দেখা যায়।] আর নারীদের ক্ষেত্রে তো পর্দা করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শিশুদের প্রতি, নারীদের প্রতি আচরণ সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে, যা পালনে ব্যর্থ হলে তাদেরকে শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিয়ম বেঁধে দেয়া হয়েছে, যা প্রসাব করা থেকে শুরু করে সেক্স করা পর্যন্ত বিস্তৃত। ধর্ম সাধারণত এসব ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে মাথা ঘামায় না।

কাল্ট অনুসারীদের মতোই মুসলমানরা ইসলামকে সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম মনে করে। ইসলামিক শাসনব্যবস্থা শরিয়াহই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শাসনব্যবস্থা। তাদের মতে মুসলমান ছাড়া বাকি সব কাফের। তারা সবাই নরকে যাবে ও সেখানে অনন্ত আগুনে পুড়তে থাকবে। অনেক সমাজবিজ্ঞানী গোপন রেসিস্ট সংগঠন ‘ক্লু-ক্লাক্স-ক্লান’কে একটি রেসিস্ট কাল্ট হিসেবে মনে করেন। জার্মানীতে নাৎসীবাদের উত্থান শুরু হয়েছিল জার্মানি ও অষ্ট্রিয়াতে গড়ে ওঠা কিছু রেসিস্ট কাল্টের হাত ধরে। ইসলাম অনুসারীরাও একই ধরণের মতবাদকে ধারণ করে–মুসলমানরাই শ্রেষ্ঠ, বাকি সব অভিশপ্ত। বাংলাদেশের মুসলমানরা হিন্দুদের ক্ষেত্রে যে ‘মালাউন’ শব্দটি ব্যবহার করে তার অর্থ অভিশপ্ত এবং শব্দটি এসেছে তাদের রেসিস্ট কাল্টসুলভ চিন্তা থেকে।

islam-demonstration

ইসলাম পৃথিবীর তাবত মানুষকে দুটি ভাগে ভাগ করে। মুসলিম ও অমুসলিম। অহিন্দু, অখ্রিষ্টান, অইহুদি, অশিখ জাতীয় কোন শব্দ কোন অভিধানে নেই। অন্য ধর্মগুলো ইসলামের মতো মানুষকে ‘আমরা’ এবং ‘তাহারা’তে ভাগ করে না। মুসলমানরা এভাবে পৃথিবীর সবকিছুকেই দুটি ভাগে ভাগ করে। বিজ্ঞানী-মুসলিম বিজ্ঞানী, দার্শনিক-মুসলিম দার্শনিক, সাহিত্য-ইসলামী সাহিত্য, আর্ট-ইসলামিক আর্ট, এমনকি বিশ্ব-ইসলামী বিশ্ব। ইসলাম যে তার শুরুকালীন কাল্ট ধারণা থেকে আদৌ নড়তে পারেনি, এটি তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ।

কাল্ট অনুসারীদের প্রায়শই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করতে দেখা যায়। যে মুসলিমরা তাদের নিজেদের দেশে অন্য ধর্মের অনুসারীদের অধিকারকে চুড়ান্ত খর্ব করে রাখে, তারাই আবার কোন খ্রিষ্টান বা বৌদ্ধ প্রধান দেশে গিয়ে পূর্ণ মানবাধিকার দাবি করে। হজ্বের ক্ষেত্রে তাদের আচারাদি পূর্ণ পৌত্তলিক হলেও তারা অন্যদের পৌত্তলিকতাকে ব্যঙ্গ করে। যে ব্যক্তিটি তার নিজ দেশে মৌলবাদী রাজনীতির সাথে জড়িত, সেই একই ব্যক্তি পশ্চিমা দেশে লিবারেল রাজনীতিকে সাপোর্ট করে। মোট কথা, কোন আদর্শ নয়, নিজস্ব মতবাদ প্রচারের সুবিধাটিই তাদের লক্ষ্য। এক্ষেত্রে মিথ্যা বলা বা অন্যায় করায় তাদের আপত্তি নেই। ইসলামের স্বার্থে এ ধরণের কাজকে জাস্টিফাই করার জন্য যে বিধানটি রয়েছে, তার নাম তাকিয়া।

ইসলামে অন্যায়কে অনুমোদন করার জন্য আল্লাহ কোরানে বারবার আয়াত নাজিল করতে থাকেন। মদীনাতে হিজরত করার পরে মোহাম্মদের নেয়া মরুযাত্রীদল (caravan) লুটের নির্দেশনা না মানতে চাইলে আল্লাহ কোরানে এ বিষয়ক আয়াত নাজিল করে তার বৈধতা দেয়। যুদ্ধে প্রেরণা দেয়া, মানুষ হত্যা করা, যুদ্ধের মালামাল লুট ও নারী-শিশুকে দাস হিসেবে নিতে কোরানের আপ্রাণ চেষ্টা ইসলামকে কোনভাবেই একটি ধর্ম হিসেবে তুলে ধরে না। [খ্রিষ্টানিটিতেও আমরা একই রূপ দেখতে পাই। তবে সেটা চালু হয়েছিল রোম সম্রাট কনস্টানটাইন খ্রিষ্টানিটিকে সাম্রাজ্য ধর্ম হিসেবে নেয়ার পর থেকে। এর সাথে যিশুর কোন সম্পর্ক ছিল না। যিশুর মৃত্যু হয়েছিল তার তিনশ বছর পূর্বে।] ধর্ম বিষয়টি সব কালে এবং সব স্থানেই আধ্যাত্মিক রূপ পরিগ্রহ করার চেষ্টা করেছে। অথচ কোরানে তার কোন প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হয় না। উল্টো হত্যা, যুদ্ধ, মালামাল লুট, ইত্যাদি অধর্মগুলোকেই বারবার ধর্ম হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

কাল্ট অন্য ধর্মের অনুসারীদের সাথে বন্ধুত্ব বা সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে নিষেধ করে। ইসলামও তাই করে। কাল্টে যোগ দিতে হলে পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করতে হয়। ইসলামেও তাই। কেউ তার নিজ ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলে সে তার পরিবারের সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করে ফেলে। অনেক সময়ই সে তার অমুসলিম পরিবারটিকে ঘৃণা করে।

ইসলামের সাথে কাল্টের এতো এতো মিল থাকার পরেও ইসলামকে কখনও কাল্ট হিসেবে চিন্তা করা হয়নি। এর প্রধান কারণ সম্ভবত এর বিশাল অনুসারী সংখ্যা। অবশ্য জওহরলাল নেহ্‌রু তাঁর Glimpses of World History বইয়ে লিখেছেন, ইসলামের প্রথম কয়েকশ বছর ইউরোপিয়ানরা মনে করতো ইসলাম একটা উদভ্রান্ত ও উগ্র মতবাদ, তাই ইউরোপে ইসলামকে ছড়াতে দেয়া হয়নি।

ইসলাম কি একেবারেই ধর্ম হয়ে ওঠেনি? শুরুতে যে কাল্ট আদলে এটি গড়ে উঠেছিল, তার থেকে কি মোটেই পরিবর্তন হয়নি? না, এমন কথা আমি বলছি না বা কেউ বলবে না। পারস্যে গিয়েই ইসলাম তার কাল্টরূপ কিছুটা হারিয়েছিল। সেখানে সুফি মতবাদ গড়ে ওঠে, যা মূল ইসলাম থেকে বেশ খানিকটা ভিন্ন। এছাড়া আব্বাসীয় খলিফাদের আমলে ইসলাম অনেকটা সহনশীল আকার ধারণ করেছিল। তখনকার অনেক মনীষী ইসলাম সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলেছেন, তবে সেসবের পরিধি ছিল খুবই সীমিত। সার্বিকভাবে সেই সময়টা ছিল ইসলামী সহনশীলতার যুগ। এর সুফলও পেয়েছিল মুসলমানরা তথা পৃথিবীর মানুষ। বিজ্ঞান-দর্শনে মুসলমানরা হয়ে উঠেছিলেন সকলের অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়। ভারতীয় উপমহাদেশে বর্তমানে সুফিবাদের যে ধারাটি প্রচলিত আছে, সেটিকে একটি যথার্থ ধর্ম বলা যেতে পারে।

কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, কাল্ট ধারার পূনর্জাগরণে ইসলামের সুফিবাদী ধারাটি ক্রমশ ম্রিয়মান। ৯/১১ পরবর্তী সময়ে ইসলামের যে ধারাটির জয়-জয়কার চলছে, সেটি একটি কাল্ট বৈ কিছুই নয়। আর এর ফলে মুসলমানদের মধ্যে অসহনশীলতা বেড়ে গিয়েছে, বেড়েছে সন্ত্রাসী আক্রমণের সংখ্যা এবং ফিরে এসেছে ইসলামী শাসনের শুরুর দিকের সেই যুদ্ধাবস্থা। এ অবস্থার আশু উত্তোরণ প্রয়োজন।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s