কোরান সম্পর্কে মডারেট মুসলিমরা সবচেয়ে বেশি মিথ্যা কথাটা বলে সুরা আল-মায়েদাহর ৩২ নং আয়াত নিয়ে। এই আয়াতটা সকল মডারেটসহ আমাদের মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রীরাও বলে থাকেন। তারা যেটা বলেন সেটা এরকম, “যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে মানুষকে হত্যা করলো, সে যেন দুনিয়ার সকল মানুষকে হত্যা করলো।” অনেকে এটাকে এভাবেও বলে থাকেন, “যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে মানুষকে হত্যা করে, সে যেন দুনিয়ার সকল মানুষকে হত্যা করে।” মানে অতীত কালকে বর্তমান কালে পরিবর্তিত করে লেখেন।
সুরা মায়েদাহর লাইনগুলো মোটেই হুবহু এমন নয়। লাইনগুলোর বাংলা ও ইংরেজী দেয়া হলো –
“এ কারণেই আমি বনী-ইসরাঈলের প্রতি লিখে দিয়েছিলাম যে, যে কেউ ‘প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করা ছাড়া’ কাউকে হত্যা করলো সে যেন সব মানুষকেই হত্যা করলো। এবং যে কারও জীবন রক্ষা করলো, সে যেন সবার জীবন রক্ষা করলো। তাদের কাছে আমার পয়গম্বরগণ প্রকাশ্য নিদর্শনাবলী নিয়ে এসেছিলেন। বস্তুতঃ এরপরও তাদের অনেক লোক পৃথিবীতে সীমাতিক্রম করছিলো।”
“On that account: We ordained for the Children of Israel that if any one slew a person – unless it be for murder or for spreading mischief in the land – it would be as if he slew the whole people: and if any one saved a life, it would be as if he saved the life of the whole people. Then although there came to them Our apostles with clear signs, yet, even after that, many of them continued to commit excesses in the land.”
তার মানে আয়াতটার পুরো তো লেখা হয়ই নি, যেটুকু লেখা হয়েছে, সেটুকুও বিকৃত করে লেখা হয়েছে। ইহা কোরানের বিকৃতি বলে বিবেচিত হবে কি? আর এটা বলা হয়েছিলো বনী-ইসরাইলের প্রতি, মুসলমানের জন্য প্রযোজ্য হবে কিনা তা নিশ্চিত নয়। আরো লক্ষনীয় ব্যাপার হলো, এই আয়াতের বাক্যগুলো অতীতকালে লেখা। তার মানে তা সর্বকালে প্রযোজ্য হবে না, জঙ্গিরা এমন ব্যাখ্যাই পছন্দ করবে।
তাহলে সর্বকালে প্রযোজ্য কী? সেটা পাবেন তার পরের আয়াতে।
সুরা মায়েদাহ, আয়াত ৩৩ এ লেখা হয়েছেঃ “যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।”
“The punishment of those who wage war against Allah and His Messenger, and strive with might and main for mischief through the land is: execution, or crucifixion, or the cutting off of hands and feet from opposite sides, or exile from the land: that is their disgrace in this world, and a heavy punishment is theirs in the Hereafter.”
তার মানে কী দাঁড়ালো? আগের লাইনের মানবতা কোথায় গিয়ে দাঁড়ালো? যারা ওপরের আয়াত নিয়ে জঙ্গিদের জ্ঞান দিতে চায়, তারা কি জানে না যে যারা জঙ্গি হয় বা যারা জঙ্গি তৈরি করে তারা মায়েদাহর ৩২ নম্বর আয়াত পড়েই থেমে থাকে না, ৩৩ নং আয়াতও পড়ে।
লক্ষণীয় যে, ৩২ নং আয়াতটার বাক্য গঠন অতীত কালে হলেও ৩৩ নং আয়াতটার বাক্য গঠন কিন্তু বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালে, যা বুঝায় তা সর্বকালের জন্য প্রযোজ্য। তাহলে জঙ্গিরা বা মুসলমানরা কি অতীত কালে ইসরাইলীদের প্রতি যা বলা হয়েছিলো তা মানবে? নাকি সর্বকালের জন্য মুসলমানদের যা বলা হয়েছে, তা মানবে? মডারেট মুসলিমদের প্রতি এই প্রশ্ন রইলো।
আমাকে প্রশ্ন করা হতে পারে যে, আপনি এই ভুল ধরে কি আরো ক্ষতি করছেন না? না। কারণ, জঙ্গিবাদের উৎস যে কোরান-হাদিস এটা মডারেটরা যতোদনি না স্বীকার করবে, ততদিন ইসলামকে রাষ্ট্র থেকে আলাদা করা যাবে না। ইউরোপের রাষ্ট্রগুলোতে চার্চ থেকে রাষ্ট্র তখনই আলাদা হয়েছিলো, যখন তারা বুঝতে পেরেছিলো যে বাইবেল তথা চার্চ অনেক অপরাধের উৎস। ধর্ম থেকে রাষ্ট্রকে পৃথক করার ফলে চার্চ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিলো এবং ধীরে ধীরে সহনশীল হতে বাধ্য হয়েছিলো। ইসলামের পরিশুদ্ধির পথটাও এমনই হতে হবে।
পোস্টের উৎসঃ দূরের পাখির একটা ফেসবুক পোস্ট। ছবিঃ স্বকৃত নোমান-এর ফেসবুক পোস্ট।
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s