বাংলাদেশে আওয়ামী ওলামা লীগকে নিয়ে লেখা এই পোস্টটি ‘বাংলাদেশের হিন্দুঃ একটি বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি’ সিরিজের তৃতীয় পর্ব হিসেবেই ধরে নেয়া যায়। কারণ, ওলামা লীগের যতো আক্রমণ তা মূলত বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপরেই।

বাংলাদেশে আওয়ামী ওলামা লীগ বা ওলামা লীগ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি অঙ্গ সংগঠন। এই সংগঠনটির অফিস বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউর আওয়ামী লীগ অফিস বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায়। যদিও আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই বলে থাকেন যে, যেহেতু ওলামা লীগেকে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা অনুমোদন দেন নি, তাই ওলামা লীগ আওয়ামী লীগের কোন স্বীকৃত অঙ্গসংগঠন নয় এবং ওলামা লীগের কোন অপকর্মের বা তাদের দাবী-দাওয়ার দায়ভার আওয়ামী লীগের ওপর বর্তায় না, তবুও সংগঠনটির বিভিন্ন সভা-সমাবেশে প্রায়শই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়। সংগঠনটির আদি নাম ছিলো আওয়ামী ওলামা পার্টি, যার জন্ম ১৯৬৯ সালে। যদিও সংগঠনটির জন্ম হয়েছিলো ভাল কাজের লক্ষ্যেই, দেশের মানুষকে বুঝানোর লক্ষ্যে যে আওয়ামী লীগের ছয় দফা ইসলাম পরিপন্থী নয়; বর্তমানে এটি আওয়ামী লীগ তথা বাংলাদেশের জন্য গোঁদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৭৫ পরবর্তী সময়ে সংগঠনটি বিলুপ্ত হয়ে গেলেও ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে আবার সংগঠনটিকে চাঙা করানোর চেষ্টা করে পূরোনো নেতারা এবং ১৯৯৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন করে যাত্রা শুরু করে। তবে পুরোদমে লাইম লাইটে আসে ২০০৯ সালে।

কয়েকমাস আগে থেকে এই সংগঠনটি কখনো ১১ দফা, কখনো ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন করে আসছে। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে প্রাসঙ্গিক কয়েকটি হুবহু তুলে ধরে বিশ্লেষণ করা হলো-

১. পাঠ্যপুস্তকে হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত নবী-রসুল আলাইহিমুস সালাম, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, হযরত সাহাবায়েকিরাম রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, হযরত ওলীআল্লাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনানের জীবনী মুবারক অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

– তাদের ১ম দফানুযায়ী সকল পাঠ্যপুস্তককে ধর্মীয় পুস্তক বানিয়ে ফেলতে হবে। আপনি যে-ধর্মেরই বা নির্ধামিকই হোন না কেন, আপনার শিশুর সকল নবী-রাসুল, খলিফাদের যুদ্ধ, জেহাদ তথা মানুষ হত্যার গল্প পড়তে হবে। পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকেই মাদ্রাসা শিক্ষায় পরিণত করতে হবে। কোমলমতি শিশুদের মধ্যে জেহাদ না ছড়াতে পারলে তাদের ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম হবে কী করে?

৪. কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী বক্তব্য যুক্ত পাঠ্যপুস্তক বাদ দিতে হবে প্রচলিত শিক্ষানীতি বাতিল করতে হবে। সরকারের ভিতর ঘাপটি মেরে থাকা নাস্তিক মন্ত্রীদের বাদ দিতে হবে।

– তার মানে বিজ্ঞান, দর্শন, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি সব বাদ দিতে হবে। কারণ, এগুলোর সবই যে কোরান-সুন্নাহ পরিপন্থী। স্বাধীনতার ৩৯ বছর পরে বাংলাদেশ প্রথম শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে, যা আসলে ‘সাপও না মরে, লাঠিও না ভাঙে’ জাতীয় একটি জগাখিচুরি শিক্ষানীতি এবং যার প্রয়োগ প্রায় নাই বললেও চলে, যা নিয়ে ক’দিন আগেও জাফর ইকবাল কলাম লিখেছিলেন, সেই শিক্ষানীতিও বাতিলের দাবি করছে ওলামা লীগ। করবেই তো, তাদের জন্য কোরান-হাদিস ছাড়া সকল শিক্ষাই যে হারাম।

৫. পাঠ্যপুস্তক থেকে মওদুদী লেখাসমুহ এবং পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিদ্বেষী হিন্দুদের লেখাসমূহ প্রত্যাহার করতে হবে।

– মওদুদীর কোন লেখা পাঠ্যপুস্তকে আছে কিনা জানি না। কিন্তু ইসলাম বিদ্বেষী হিন্দুদের লেখা বলতে কোন লেখাকে বুঝিয়েছে তারা? তাদের এই দাবির প্রেক্ষাপটে পরবর্তীতে তাদের বিভিন্ন আলোচনা বক্তৃতায় যা বুঝিয়েছে, তাতে তারা বলতে চেয়েছে বাংলাদেশে পাঠ্যপুস্তেকে হিন্দু লেখকদের গল্প-কবিতা মুসলমান সাহিত্যিকদের চেয়ে তুলনামূলক কম এবং এর সাথে তারা হুমায়ুন আজাদ, সেলিনা হোসেনসহ অনেকের লেখা বাতিলের দাবি তুলেছে। বাংলা সাহিত্য মানে বাংলা সাহিত্য; হিন্দু লেখক, মুসলমান লেখক, নাস্তিক লেখক ভাগ করে তারা মুসলমানদের সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দিচ্ছে।

৭. এদেশের ৯৮ ভাগ জনসাধারণ মুসলমান। কাজেই এদেশের শিক্ষানীতি হবে সম্পুর্ন ইসলামিক।

– ২০১১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী দেশের মুসলমান জনসংখ্যা ৯০ শতাংশের একটু বেশি। কিন্তু ওলামা লীগ তাদের প্রতিটি সভা-সমাবেশে ৯৮ শতাংশ মুসলমান বলে দাবি করে আসছে দীর্ঘদিন। দেশের বাকি আট শতাংশ অমুসলিমদের তারা মুখের কথা দিয়েই কমিয়ে দিয়েছে, এবং বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সাম্প্রদায়িকতাকে চাঙা করে দেশ থেকে তাদের তাড়াতে চাচ্ছে।

৯. বিয়ের নুন্যতম বয়স ১৬ বা ১৮ নির্দিষ্ট করা যাবে না, সুন্নতি বাল্যবিবাহ বিরোধী সব আইন প্রত্যাহার করতে হবে।

– হ্যাঁ, নবী মোহাম্মদ ৬ বছর বয়সের আয়শারে বিয়ে করেছিলো, তাই এসব অসভ্য বর্বর শিশুকামীদের সুন্নত পালন করতে হলে তো প্রচলিত আইন রদ করতেই হয়।

১০. চাকরীর ক্ষেত্রে ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠি মুসলমানদের নিয়োগ আনুপাতিকহারে করতে হবে। হিন্দুদের ৬০% বা তারও বেশি
নিয়োগ দিয়ে বৈষম্য করা যাবে না। প্রশাসনকে হিন্দুকরণ চলবে না।

– বাংলাদেশে বর্তমানে ক’জন অমুসলিম জেলা প্রশাসক আছেন? ক’জন অমুসলিম এস.পি আছেন? জনসংখ্যার শতাংশ বিচারে তাদের সংখ্যা যে কম হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এছাড়া সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীতে তো অমুসলিম কর্মকর্তা সবসময়ই প্রায় শূণ্যের কোঠায় থাকে; এটা তো প্রায় অলিখিত সংবিধানের মতোই পালন করা হয়। তুলনামূলক বিচারে অমুসলিমদের সংখ্যা একটু বেশি আছে শিক্ষা বিভাগে; তবে তাও সরকারী ক্যাডারে নয়, বেসরকারী স্কুল-কলেজে। এর কারণ হলো, জনসংখ্যার তুলনায় অমুসলিমরা, বিশেষ করে হিন্দুদের মধ্যে শিক্ষিতের হার বেশি, কিন্তু প্রশাসনিক বা নীতি নির্ধারণী পদগুলোতে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের নিয়োগ বেশি, তাই হিন্দুদের অনেকেই চাকুরীর জন্য বেসরকারী স্কুল-কলেজগুলো বেছে নেয়। এটা সেই প্রবাদের ফল- যার নেই কোন গতি, সেই করে পণ্ডিতি।

এই ১০ দফা ছাড়াও ওলামা লীগের দ্বারা সময়ে সময়ে আরো যেসকল দাবী-দাওয়া উপস্থাপন করতে দেখেছি, তার মধ্যে অন্যতম হলো-

১. বাংলাদেশর মতো মুসলিম দেশে সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে প্রধান বিচারপতি পদ থেকে অব্যাহতির দাবি।

২. বাংলাদেশকে মুসলিম দেশ দাবি করে সংসদ ভবন প্রাঙ্গনে সরস্বতি পূজা বন্ধের দাবি এবং তা বাস্তবায়ন।

৩. সিরাজগঞ্জে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে বিরোধিতা।

৪. বাংলা নববর্ষ উদযাপনের বিরুদ্ধে বক্তৃতা প্রদান।

আওয়ামী লীগ তাদেরকে সেক্যুলার দল হিসেবে দাবি করে। কিন্তু আওয়ামী লীগের এই অঙ্গসংগঠনটি একটি শতভাগ সাম্প্রদায়িক সংগঠন। সহজভাবে বললে ওলামা লীগ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সাম্প্রদায়িকতার নতুনতম সংযোজন। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনে জেতার পরে দেশের হিন্দুদের ওপর যে অবর্ণনীয় নির্যাতন নেমে এসেছিলো, তার পেছনেও ছিলো রাষ্ট্রীয় সাম্প্রদায়িকতা। উপমহাদেশে অতীতে যতগুলো দাঙ্গা বা বড় ধরণের সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়েছে, তার প্রায় সবগুলোই রাজনৈতিক এবং বেশিরভাগের পিছনেই রাষ্ট্রীয় সাম্প্রদায়িকতা দায়ী। আমার লেখা পূর্বের পোস্ট ‘বাংলাদেশের হিন্দুঃ একটি বিলুপ্ত প্রজাতি (পর্ব-২)-যারা পড়েছেন, তারা দেখেছেন, পাকিস্তান বা বাংলাদেশে যখনই রাষ্ট্রীয়ভাবে সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয় দেয়া হয়েছে বা উস্কে দেয়া হয়েছে, তখনই দেশে বড় ধরণের সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়েছে এবং দেশ থেকে হিন্দুরা ক্রমাগত ভারতে পাড়ি জমিয়েছে। অথচ হিন্দুদের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়াকে এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠরা দেশপ্রেমের ঘাটতি বলে প্রোপাগাণ্ডা চালিয়েছে।

২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পূর্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এমন নির্লজ্জভাবে আর কখনো রাষ্ট্রীয়ভাবে সাম্প্রদায়িকতাকে লালন করে নি। ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন ক্রমশ বেড়েই চলছে। ২০১৪ সালের নির্বাচন ও যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর রায়ের ইস্যুকে কেন্দ্র করে যে সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়েছিলো, তার সাথে বিএনপি-জামাত জড়িত থাকলেও পরবর্তী বেশিরভাগ সংখ্যালঘু নির্যাতনের সাথেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেখা গিয়েছে। রামুর বৌদ্ধ বিহার পুড়ে দেয়ার মতো ঘটনায় দেখা গিয়েছে, আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জামাত সব চোরে চোরে মাসতুতো ভাই। আওয়ামী লীগ যখন থেকে হেফাজত তোষণ শুরু করেছে, তখন থেকেই দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন বেড়ে গিয়েছে। রাষ্ট্র যখন সাম্প্রদায়িকতা প্রশ্রয় দেয়, তখন এমনটাই ঘটে; অতীতেও এমনটাই ঘটেছে; ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ সবখানেই।

বাংলাদেশের প্রায় একশতভাগ হিন্দুই আওয়ামী লীগে ভোট দেয়। এর দুটো কারণ –

১. এদেশী হিন্দুদের কাছে আওয়ামী লীগ শেখ সাহেবের দল (বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কিছু বলতে হলে আমার বাবা-কাকা-ঠাকুমা এবং অন্যদের এমনটাই বলতে শুনেছি এবং তাঁরা খুব শ্রদ্ধাভরেই এই নামটি উচ্চারণ করে থাকেন), যে দলটি পাকিস্তানের অন্ধকার সময় পার করিয়ে এই ভূখণ্ডকে হিন্দু তথা সংখ্যালঘুদের জন্য বাসযোগ্য করেছে। এদেশের সংখ্যালঘুরা সংখ্যাগুরুদের মতো নেমকহারাম নয়, তাই তারা শেখ সাহেবের দলকেই ভোট দেয় এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মকেও তারা শেখ মুজিব তথা স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ শিখিয়েই গড়ে তোলে। এমনকি যে পরিবারটি বাংলাদেশের অত্যাচার সয়ে ভারতে বা অন্য কোথাও পাড়ি জমায়, তার কাছেও কোনদিন বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা ছোট হয়ে যায় না।

২. বিএনপি যে একটি ছদ্মবেশী ইসলামী জাতীয়তাবাদী দল, যার অন্তরে রয়েছে সাম্প্রদায়িক পাকিস্তানের বীজ- এটা বাংলাদেশের হিন্দুরা এর জন্ম থেকেই বুঝতে পেরেছিলো। তাই এ দলটিকে তারা কখনোই স্বাগত জানায় নি। (গয়েশ্বরের মতো দু’একটা মীরজাফর ওখানে আশ্রয় নিলেও এদের সংখ্যা এতোই কম যে, তা গণনার মধ্যে পড়ে না।) এখন তো বিএনপি আর জামতের মধ্যে সামান্যতম পার্থক্য নেই। হিন্দুদের ভোট পাবার মতো কোন আগ্রহও বিএনপি বোধ করে নি, বরং সংখ্যালঘুদের কোনঠাসা করতে পারলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের ভোট পাওয়া যাবে, এটাই এই দলটির মধ্যে সবসময় কাজ করেছে।

যে আওয়ামী লীগের কাছে তাদের এতো প্রত্যাশা, সে-দলটি যখন রাষ্ট্রীয় সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয় দেয়, তখন বাংলাদেশের হিন্দুদের আশ্রয় নেয়ার মতো আর কোন জায়গা অবশিষ্ট থাকে না।

ওলামা লীগের ক্রমাগত হিন্দু-বিদ্বেষ ছড়ানো এবং ইসলামী সাম্প্রদায়িতাকে উস্কে দেয়ার পরেও আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষ থেকে এর কোন প্রতিবাদ করা হয় নি। আওয়ামী লীগের অংগসগঠন না হলেও একটা স্বাধীন রাষ্ট্রে ওলামা লীগের এ ধরণের কাজগুলো কেন অপরাধ বলে বিবেচিত হবে না, কেন তাদেরকে বিচারের অধীনে আনা হবে না? উল্টো তাদেরকে আওয়ামী লীগ অফিসের মধ্যে অফিসের জায়গা দিয়ে, তাদের বিভিন্ন সভায় আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের যোগদান করে (সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম পর্যন্ত তাদের সভায় অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে) তাদের সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ডকে অনুমোদন দেয়া কি রাষ্ট্রীয় সাম্প্রদায়িকতা নয়? বর্তমান বাংলাদেশের সাথে ৭১ পূর্ববর্তী বাংলাদেশের পার্থক্য কোথায়?

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ কোনঠাসা। নির্বাচন কমিশনে তাদের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে, হয় তো রাজনৈতিক দল হিসেবেও তাদের নিবন্ধন বাতিল হবে। ওলামা লীগের আস্ফালন যে জামাতের জায়গাটা পূরণ করার জন্যেই, তা এখন প্রতিটা সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের কাছেই পরিষ্কার। আওয়ামী লীগের রাজনীতিকরা যদি সুস্থ মস্তিষ্কের হতেন, তাহলে তারাও এটা বুঝতে পারতেন। হয় তো, লীগের নেতাদের মস্তিষ্কও সুস্থ এবং সুস্থ মস্তিষ্কেই তারা ওলামা লীগের সাম্প্রদায়িকতাকে বাড়তে দিচ্ছেন, কিন্তু আমরা আওয়ামী লীগের এই অবস্থাকে কোনভাবেই সুস্থ বলি না। এই আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ না, এটা আওয়ামী মুসলিম লীগ বা তারও আগের সংগঠন মুসলিম লীগ। আমরা এখন স্বাধীন বাংলাদেশে বাস করি, আমরা চাই না পূর্ব পাকিস্তান আমলের আওয়ামী মুসলিম লীগ আবার ফিরে আসুক। আমরা চাই না পাকিস্তানের মতো রাষ্ট্রীয়ভাবে সাম্প্রদায়িকতাকে লালন করে দেশকে সংখ্যালঘু-শূণ্য করা হোক।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s